×
  • আপডেট টাইম : 25/04/2018 09:43 AM
  • 38 বার পঠিত
নিজস্ব প্রতিনিধি:-  চেইন সুপারশপ স্বপ্নের ক্রেতাদের ক্রেডিট কার্ড জালিয়াতি করে প্রতিষ্ঠানটির এক কর্মীর কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে। শরিফুল ইসলাম নামে ওই কর্মীকে গ্রেপ্তারের পর পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ জানিয়েছে, তিনি রাশিয়ায় পড়াশোনা করতে গিয়ে এই কৌশল শিখেছেন। বুধবার বেলা পৌনে ১২টার সময়ে সিআইডির সদরদপ্তরের সমম্মেলন কক্ষে শরিফুলের ‘জালিয়াতির’ বিষয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন সংস্থাটির বিশেষ পুলিশ সুপার মোল্লা নজরুল ইসলাম। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রাজধানীর মিরপুর এলাকা থেকে শরিফুলকে গ্রেপ্তার করে সিআইডি। তিনি পাঁচটি ব্যাংকের কার্ড জালিয়াতির মূল হোতা বলে জানান কর্মকর্তারা। তিনি বছর পাঁচেক আগেও একই অভিযোগে গ্রেপ্তারের পর দেড় বছর কারাগারে ছিলেন। গ্রেপ্তারের সময় স্বপ্নের এই কর্মীর কাছ থেকে একটি ল্যাপটপ, ১৪০০ ক্লোন কার্ড, একটি ম্যাগনেটিক স্ট্রিপ কার্ড রিডার ও রাইটার, তিনটি পজ মেশিন, গ্রাহকদের তথ্য চুরিতে ব্যবহার করা ডিজিটাল হাতঘড়ি, দুইটি মিনি কার্ড রিডার ডিভাইস, ১৪ টি পাসপোর্ট, আটটি মোবাইল সেট, একটি ক্রেডিট কার্ড, পরচুলা ও তিনটি জাতীয় পরিচয়পত্র উদ্ধার করা হয়। মোল্লা নজরুল ইসলাম বলেন, মার্চের দ্বিতীয় সপ্তাহে ব্র্যাক, সিটি, ইবিএল, ইউসিবিএল এবং ব্যাংক এশিয়া তাদের ক্রেডিট কার্ড জালিয়াতি ঘটনা সিআইডির অর্গানাইজড ক্রাইম বিভাগের নজরে আনে। তদন্তে দেখা যায় গ্রাহকেরা যখন সুপার শপ ও ডিপার্টমেন্টাল সেন্টারে যায়, তখন চক্রটি কৌশলে গ্রাহকদের তথ্য চুরি করে ক্লোন কার্ড তৈরি করে। এরপর এটিএম বুথ থেকে টাকা তুলে নেয় তারা। সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার জানান, শরিফুল ইসলাম স্বপ্নের বনানী শাখায় কাজ করার সময়ে নিজের হাতঘড়িতে সংযুক্ত বিশেষ মিনি কার্ড রিডারের মাধ্যমে গ্রাহকের কার্ডের অভ্যন্তরীণ তথ্য নিয়ে নিতেন। তারপর গ্রাহক যখন পিন নম্বর দিতেন তখন কৌশলে পিন নম্বর দেখে নিতেন। আর গ্রাহক চলে গেলে রিপ্রিন্ট দিয়ে কপিটা সংগ্রহ করে তার পেছনে পিন নম্বরটা লিখে রাখতেন। বাসায় ফিরে শরিফুল ল্যাপটপ এবং ডিজিটাল ডিভাইসের মাধ্যমে গ্রাহকের তথ্যাবলী ‘ভার্জিন’ বা খালি কার্ডে স্থাপন করে ক্লোন এটিএম কার্ড তৈরি করতেন। এরপর এটিএম বুথ থেকে টাকা তুলে নিতেন। বুথ থেকে টাকা তোলার সময়ে সিসি ক্যামেরায় তাকে চেনা না যায় এজন্য শরিফুল পরচুলা ও রোদ চশমা ব্যবহার করতেন। সিআইডি জানান, শরিফুলের স্বপ্নে চাকরি করার আসল উদ্দেশ্য ছিল ক্রেডিট কার্ড জালিয়াতি। কারণ, গ্রাহকদের একটি বড় অংশই এখন কার্ড দিয়ে বিল পরিশোধ করেন। এই জালিয়াতির টাকায় বিলাসবহুল জীবনযাপন করতেস। তিনি চলাচলের জন্য একটি টয়োটা এলিয়েন মডেলের গাড়ি ব্যবহার করতেন। তার ব্যাংকের হিসাব পর্যালোচনা করে দেখা গেছে তিনি এই কাজ করে কয়েক কোটি টাকা রোজগার করেছেন। মোল্লা নজরুল ইসলাম বলেন, শরিফুল ইসলাম মেহেরপুর জেলার বোয়ালীয়া উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে ২০০১ সালে মাধ্যমিক এবং ২০০৩ সালে গাংনী ডিগ্রি কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করেন। পরে উচ্চতর ডিগ্রি অর্জনে জন্য রাশিয়া যান শরিফুল। সেখানকার পিপলস ফ্রেন্ডশিপ ইউনির্ভাসিটি থেকে মাইন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে তিন বছর মেয়াদি ডিগ্রি নিয়ে ২০১০ সালে বাংলাদেশে ফেরত আসেন। রাশিয়ায় থাকাকালে রুমমেট ইভানোভিচের কাছ থেকে ক্রেডিট কার্ড জালিয়াতির কৌশল শেখেন শরিফুল। পরে চীন থেকে একটি ক্লোন মেশিন, ঘড়িসহ জালিয়াতির সরঞ্জাম সংগ্রহ করেন। একই ধরনের জালিয়াতির ঘটনায় ২০১৩ সালে দুইটি মামলা হয় শরিফুলের বিরুদ্ধে। তখন তিনি ১৮ মাস কারাগারে ছিলেন। এরপর কিছুদিন ছাত্র পরামর্শক ফার্ম খুলেন। সেখানে তেমন সুবিধা করতে না পেরে আবারও ক্রেডিট কার্ড জালিয়াতিতে জড়িয়ে পড়েন। ক্রেডিট কার্ডের পিন নিয়ে সতর্কতা সংবাদ সম্মেলনে ক্রেডিট কার্ডের পিন ব্যবহারের সময় সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন সিআইডি কর্মকর্তা মোল্লা নজরুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘শপিং মলে বা এটিম কার্ডে টাকা তোলার সময়ে পিন নম্বর চাপার সময়ে অন্য একটি হাত দিয়ে ঢেকে রাখুন যাতে সিসি ক্যামেরায় আপনার পিন নম্বর কেউ চুরি করতে না পারে।’ এ সময়ে ব্র্যাক ব্যাংকের ‘হেড অফ কমিউনিকেশনস অ্যান্ড সার্ভিস কোয়ালিটি’ জারা জাবীন মাহবুব বলেন, ‘কয়েকজন গ্রাহক তাদের মুঠোফোনে ক্ষুদে বার্তার মাধ্যমে জানতে পারেন ব্যাংক থেকে কেউ তাদের টাকা তুলে নিয়েছে। তখন তারা আমাদের জানালে বিষয়টি আমরা চেক করে তাদের টাকা ফেরত দিয়ে দেই। পরে আমরা বিষয়টি সিআইডিকে জানাই। মার্চ মাসে এই সংক্রান্ত নয়টি অভিযোগ পেয়েছি।’

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..

ফেসবুকে আমরা...