×
  • আপডেট টাইম : 30/04/2018 03:24 AM
  • 66 বার পঠিত
নিজস্ব প্রতিনিধি:- ছাত্রলীগের সম্মেলন মানেই আলোচনায় সিন্ডিকেট। নেতৃত্ব নির্বাচন বরাবরই প্রশ্নবিদ্ধ এই ছাত্র সংগঠনে। ভোট হলেও স্বচ্ছতা না থাকা, ভোটার তালিকা প্রকাশ না পাওয়াসহ নানা কারণে এই সিন্ডিকেটের কথা এখন মুখে মুখে। আগামী ১১ ও ১২ মের জাতীয় সম্মেলনের আগেও বরাবরের মতো সামনে আসছে সিন্ডিকেটের আলোচনা। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে সংগঠনটির সাবেক কয়েকজন ছাত্রনেতা, যারা এখন আওয়ামী লীগে আছেন। এসব সিন্ডিকেটের প্রভাবের সত্যতা যাচাই করা কঠিন। তবে বেশ কয়েকজন নেতার নাম ছাত্রলীগের পদপ্রত্যাশীদের মুখে মুখে। তাদের মধ্যে এই বিশ্বাস প্রবল আর জাতীয় সম্মেলনের আগে কথিত সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে থাকা নেতাদের বলয়ে ভিড়তে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের চেষ্টা এখন স্পষ্ট। পরিস্থিতি এমনই যে, খোদ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের রবিবার ছাত্রলীগের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সম্মেলনে এসে বলে গেছেন, এসব সিন্ডিকেট চলবে না। কারও নেতার পকেটে থাকা চলবে না। ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসাইন অবশ্য দাবি করেছেন, এসব প্রচার অকারণে। তিনি বলেন, ‘কারও পছন্দ বা অপছন্দে নেতা নির্বাচনে কোন ফ্যাক্টর না। নেতা নির্বাচনে নেত্রীর (শেখ হাসিনা) সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত, কারণ তিনিই ছাত্রলীগের একমাত্র অভিভাবক।’ নির্ধরিত সময়ের প্রায় ১০ মাস পর সম্মেলনকে ঘিরে পদ প্রত্যাশীদের দৌড়-ঝাঁপ চলার মধ্যেই নেতৃত্ব নির্বাচন কাউন্সিলরদের ভোটে, না কি আওয়ামী লীগে কথিত কথিত সিন্ডিকেটের পছন্দে কেন্দ্রীয় কমিটির আসবে-এটা এখনও স্পষ্ট নয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ছাত্রলীগের বর্তমান কমিটির একজন বলেন, ‘সিন্ডিকেট তার পছন্দ অনুযায়ী নেতা নির্বাচন করার জন্য এই ভুয়া ভোটের আয়োজন করে।’ গত কয়েকটি জাতীয় সম্মেলনে নেতৃত্ব নির্বাচনে যতবার ভোট হয়েছে, সেগুলো আসলেই প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ছিল কি না এ নিয়ে নানা প্রশ্ন আছে। একাধিক ক্ষেত্রেও একাধিক প্রার্থী থাকলেও কাকে ভোট দিতে হবে, সেটি আগেই ঠিক করা ছিল বলে প্রচার আছে। ছাত্রলীগের ১০১টি সাংগঠনিক জেলা কমিটি থেকে ২৫ জন করে কাউন্সিলর থাকেন সংগঠনটির জাতীয় সম্মেলনে। তাদের ভোটে শীর্ষ পদের নেতৃবৃন্দরা নির্বাচিত হয়। কিন্তু ভোটার তালিকা না থাকায় কারা নেতা নির্বাচনের জন্য ভোট দিচ্ছেন তাদের পরিচয় জানা যায় না। এই তিনটি সম্মেলনেই দেখা গেছে কোন কোন জেলা থেকে শুধু জেলা শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ভোট দিতে সংগঠনের জাতীয় সম্মেলনে যোগ দেন। তারা দুইজনই বাকি ২৩ জনের ভোট দেন। ভোটারদের পরিচয় প্রকাশ না করায় এই সমস্যা হচ্ছে। এবার এই পরিস্থিতি যেন না হয়, সে জন্য ছাত্রলীগের একটি অংশ এমনকি আওয়ামী লীগের নেতাদেরও কেউ কেউ কথিত ভোটের বদলে শেখ হাসিনার ওপর সিদ্ধান্তের ওপর সব ছেড়ে দিতে চান। আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘এসব ভোটের কথা বলা হচ্ছে সিন্ডিকেটের জন্য। তার চেয়ে নেত্রী নেতৃত্ব ঠিক করে দেবেন, এটাই আমাদের চাওয়া।’ ছাত্রলীগ এবং আওয়ামী লীগের এই মতের পক্ষে নেতারা জানান, এরই মধ্যে সম্ভাব্য পদপ্রত্যাশীদের বিষয়ে দলীয়ভাবে এবং গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে নিজের ও পরিবারের বিষয়ে খোঁজখবর নেয়া হচ্ছে। কোনোভাবেই যেন নেতৃত্বে অনুপ্রবেশকারা না আসতে পারে, এ বিষয়ে এবার সতর্ক শেখ হাসিনা। জানতে চাইলে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসাইন বলেন, ‘ছাত্রলীগের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী আমাদের সকল প্রস্তুতি থাকবে। ছাত্রলীগের একমাত্র অভিভাবক শেখ হাসিনা যেভাবে বলবেন সেভাবেই নেতা নির্বাচন করা হবে।’ ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর ছাত্রলীগের নানা কর্মকাণ্ডে ক্ষমতাসীন দলকে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে। নেতা-কর্মীদের সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি এমনকি হত্যায় সম্পৃক্ততার অভিযোগের পর বিরক্তি প্রকাশ করেছেন আওয়ামী লীগ নেতারাও। আর সম্প্রতি আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের জানিয়েছেন, ছাত্রলীগকে নিয়ে তারা নতুন করে ভাবছেন এবং নতুন মডেলে হবে সংগঠনটি। এই নতুন মডেল কী হবে, সেটা অবশ্য পরে জানাননি ওবায়দুল কাদের। আর এ নিয়েও ছাত্রলীগ নেতাদের মধ্যে আছে জিজ্ঞাসা।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..

ফেসবুকে আমরা...