×
  • আপডেট টাইম : 05/05/2018 03:13 AM
  • 66 বার পঠিত
নিজস্ব প্রতিনিধি:- ৭ মার্চ রাজধানীতে আওয়ামী লীগের সমাবেশগামী মিছিল থেকে কিশোরীকে হয়রানির ভিডিও চিত্র পাওয়া গেলেও অভিযুক্তদের প্রায় দুই মাসেও শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। ঘটনার পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এবং পুলিশ কর্মকর্তারা অভিযুক্তকে দ্রুত আইনের আওতায় আনার আশ্বাস দিয়েছিলেন। সেদিন অন্তত একটি ঘটনার ভিডিও ফুটেজ পেয়েছে পুলিশ। সেটি জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্বয়ং। কিন্তু সেই ফুটেজ থেকে কাউকেই শনাক্ত করা যায়নি। ভিডিও ফুটেজ পাওয়ার পরও দুই মাসে অভিযুক্তরা গ্রেপ্তার না হওয়ায় পুলিশের সদিচ্ছা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন মানবাধিকার কর্মী সালমা আলী। সালমা আলী বলেন, ‘এই ঘটনা তো নতুন নয়। সেই ১৯৯৯ সালে থার্টিফার্স্ট নাইটে যৌন হয়রানির কোনো বিচার হয়নি। এ কারণেই অপরাধীরা সব সময়ে ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকে। এর ফলে এই মনোভাবের মানুষ মনে করে তাদের কিছু হবে না। এ কারণেই তারা এসব অসভ্যতা করতে উৎসাহী হয়ে ওঠে।’ ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ভাষণের স্মরণে জনসভা করে আওয়ামী লীগ। আর এজন্য আশপাশের বিভিন্ন সড়কে যান চলাচল নিয়ন্ত্রিত ছিল। এ কারণে হেঁটে চলতে বাধ্য হয়েছে মানুষ। আর চলার পথে জনসভায় আসা নেতা-কর্মীদের হাতে বেশ কয়েকজন নারী হয়রানির শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এদের মধ্যে ভিকারুন নেছা নুন স্কুল অ্যান্ড কলেজের ছাত্রী অদিতি বৈরাগী ফেসবুকে তার অভিজ্ঞতা বর্ণনা করার সঙ্গে সঙ্গে তা ছড়িয়ে যায়। দুদিন পর আদিতির বাবা অনাদি রঞ্জন বৈরাগী রমনা থানায় অজ্ঞাতদের আসামি করে মামলা করেন। মামলাটি প্রথমে তদন্ত করেন রমনা মডেল থানার পরিদর্শক (অপারেশন) শফিকুল ইসলাম। এর দুই দিন পরে মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব পান ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের রমনা বিভাগে। মামলার তদন্তের অগ্রগতির ব্যাপারে জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (রমনা অঞ্চলের) সহকারী কমিশনার শামসুল আরেফিন বলেন, ‘ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। তদন্তও চলছে। তবে চূড়ান্তভাবে কিছু বলার মতো সময় এখনও আসেনি।’ কারা এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত ছিল তাদের কাউকে শনাক্ত করতে পেরেছেন কী না এমন প্রশ্নে এই গোয়েন্দা কর্মকর্তা বলেন, ‘না, এখনও পর্যন্ত কাউকেই শনাক্ত করতে পারিনি আর এই মামলার সঙ্গে জড়িত এমন কাউকে গ্রেপ্তারও করা হয়নি।’ সেদিন অদিতির পাশাপাশি ইশরাতুল শোভা, আফরিন আসাদ মেঘলাসহ আরও বেশ কয়েকজন তরুণীও ফেসবুকে একই ধরনের অভিজ্ঞতার কথা লিখেন। একজন লিখেছেন ‘আল্লাহ কেন মেয়েদের দুইটা হাত দিল? দুইটা হাত দিয়ে এতগুলো হাত থেকে বুক, পেট বাঁচাব, ওড়না ধরে রাখব নাকি তাদের হাতগুলো সরাব?’ অন্য একজন লিখেন, ‘হল থেকে বের হয়ে কোনো রিকশা পাইনি। কেউ শাহবাগ যাবে না। হেঁটে শহীদ মিনার পর্যস্ত আসতে হয়েছে। আর পুরোটা রাস্তাজুড়ে ৭ মার্চ পালন করা দেশভক্ত সোনার ছেলেরা একা মেয়ে পেয়ে ইচ্ছামতো টিজ করছে। নোংরা কথা থেকে শুরু করে যেভাবে পারছে টিজ করছে।’ ঘটনার পরদিন ৮ মার্চ এক অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, ওই ঘটনার ভিডিও মিলেছে। তবে ভিডিওতে কী আছে, সেটা জানাননি তিনি। ওইদিন মন্ত্রী বলেন, ‘ভিডিও ফুটেজ দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অপরাধী যে দলেরই হোক ছাড় দেওয়া হবে না।’ ১১ মার্চ রাজধানীতে অন্য একটি আলোচনায় মন্ত্রী বলেন,  ‘ভিকারুননেসা স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থীকে বেশ কয়েকজন ওড়না ধরে টানাটানি করেছে এ ঘটনা সত্য। ভিডিও ফুটেজ দেখেছি, সেখানে দেখা গেছে।...ভিডিও ফুটেজ দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অপরাধী যে দলেরই হোক ছাড় দেওয়া হবে না।’ ১৭ মার্চের ‘অপরাধীরা ধরা ৭ মার্চ নারী লাঞ্ছনার ভিডিও ফুটেজ থাকার পরও কাউকে ধরতে না পারলেও এর ১০ দিন পর বাসে যৌন হয়রানির ঘটনায় এক তরুণী ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেয়ার পর পুলিশ সেই বাসটিকে খুঁজে বের করে অভিযুক্তদেরকে আটক করে। যদিও মেয়েটি এই ঘটনায় কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করেনি ‍পুলিশের কাছে। ইডেন মহিলা কলেজের এক ছাত্রী ১৭ মার্চ সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে ফার্মগেটের সেজান পয়েন্ট থেকে মতিঝিল-মিরপুর চিড়িয়াখানা রুটে চলাচলকারী ‘নিউ ভিশন’ পরিবহনের একটি বাসে উঠেছিলেন। বাসে যাত্রী কম থাকায় অস্বস্তিতে যেতে চাইলে বাসচালকের সহকারী দরজাও রোধ করে দাঁড়ান এবং বাসচালক তাঁকে দরজা আটকে দিতে বলেন। এক পর্যায়ে বাসটি গতিপথ পরিবর্তনের চেষ্টা করছে বলে মনে করে সহকারীকে ধাক্কা দিয়ে নেমে যান ওই ছাত্রী। ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেয়ার পর এরপরই ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (পশ্চিম) কাজ শুরু করে। ওই ছাত্রীর ফেসবুক পেজের ‘প্রাইভেসি রেসট্রিকটেড’ ছিল। তারপরও পুরিশ চেষ্টা করে ভুক্তভোগীর সঙ্গে যোগাযোগ করে। এক পর্যায়ে অভিযুক্তদের শনাক্ত করে আটক করা হয়। প্রথমে অভিযোগ অস্বীকার করলেও পরে তারা দায় স্বীকার করে নেয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..

ফেসবুকে আমরা...