×
  • আপডেট টাইম : 07/05/2018 08:26 AM
  • 69 বার পঠিত
রাজনীতিবিদদের বিষয়ে সাধারণ মানুষ, এমনকি দলীয় নেতা-কর্মীরা মনে মনে কী ধারণা পোষণ করে, সেটি নিশ্চয় আপনারা জানেন। তৃণমূল থেকে শুরু করে কেন্দ্র পর্যন্ত, অধিকাংশ রাজনীতিবিদ সম্পর্কে মানুষ নেতিবাচক ধারণা পোষণ করে। সামনাসামনি সালাম/আদাব দিলেও, কোনো কোনো ক্ষেত্রে পা ছুঁয়ে সালাম করে বাড়তি আনুগত্য প্রকাশ করলেও মনে মনে ঠিকই বদদোয়া দেয়; সুযোগ পেলেই কর্মী বা ছোট নেতা বড় নেতাদের ল্যাং মারে। রাজনীতি যদি হয় লোভের আর লাভের, তাহলে এমন অসুস্থ পরিবেশই থাকবে। এমন অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতেও ব্যতিক্রম আছেন কিছু মানুষ। তাঁদেরই অগ্রভাগে আছেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং তাঁর যোগ্য সাথী, সবার প্রিয় মানুষ, রাজনীতিবিদ সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম। শেখ হাসিনা অবিরাম দেশ ও দশের কল্যাণে চেষ্টা করে যাচ্ছেন। তাঁর যোগ্য সহচর সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম সর্বশেষ কাউন্সিলের পর থেকে খানিকটা বিরতি দিয়েছিলেন। এমনিতেই প্রচার বিমুখ মানুষটি আরও চুপচাপ হয়ে গিয়েছিলেন। কিন্তু তাঁকে নিয়ে আলোচনা বন্ধ হয়নি। বিরতিপর্বে নানা জাতীয় সংকটে দলীয় নেতা কর্মী, সাধারণ মানুষ আশরাফুল ইসলামকে মিস করেছেন। বিপদের সময় যিনি সঠিক পথ দেখাতে পারেন, যার কথায় এবং কাজে মিল থাকবে এবং দেশের মঙ্গল হবে, তিনিই তো প্রকৃত নেতা। তাই আশরাফুল ইসলামকে নিয়ে দলের ভেতরে ও বাইরে একটা হাহাকার ছিল। অবশেষে তিনি নিজেই বললেন, আবার রাজনীতিতে সক্রিয় হবেন। এতে করে নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ নিজের সুখানুভূতি ব্যক্ত করে ফেসবুকে প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছেন। জনপ্রিয় বাংলা অনলাইন নিউজ পোর্টাল এর প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, রবিবার সচিবালয় সংলগ্ন এক অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ক্ষমতাসীন দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আশরাফ বলেন, ‘আমি অনেক দিন মাঠে ছিলাম না। এই যে আজ এসেছি, এখন থেকে আবার রাজনীতি শুরু করব।’ ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু ও পিতা সৈয়দ নজরুল ইসলামসহ জাতীয় চার নেতাকে হত্যার পর সৈয়দ আশরাফ যুক্তরাজ্যে চলে যান। স্বাধীন বাংলা সরকারের অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলামের বড় ছেলে আশরাফ ১৯৯৬ সালের আগে দেশে ফেরেন। ওই বছরের ১২ জুনের নির্বাচনে কিশোরগঞ্জ সদর আসন থেকে তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এরপর আরও তিনটি নির্বাচনে তিনি একই আসন থেকে সংসদ সদস্য হন। ২০০৭ সালে সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করে আশরাফ তার রাজনৈতিক প্রজ্ঞার প্রমাণ দেন। আর ২০০৯ সালে দলের সম্মেলনে তাকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়। এর পরের সম্মেলনেও তিনি একই পদে বহাল থাকেন। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের পর স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের (এলজিআরডি) মন্ত্রী করা হয় সৈয়দ আশরাফকে। কিন্তু ২০১৫ সালের ৯ জুলায় তাকে মন্ত্রণালয় থেকে অব্যাহতি দিয়ে দপ্তরবিহীন মন্ত্রী করা হয়। আর এলজিআরডি মন্ত্রী করা হয় ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেনকে। এর কিছুদিন পর ১৬ জুলাই জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেয়া হয় সৈয়দ আশরাফকে। এদিকে ২০১৬ সালের ২২ ও ২৩ অক্টোবর দলের সব শেষ জাতীয় সম্মেলনে আশরাফের বদলে ওবায়দুল কাদেরকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়। এরপর সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য করা হয় আশরাফকে। এরপর আশরাফের একটি বড় সময় কেটেছে যুক্তরাজ্যে তার অসুস্থ স্ত্রীর পাশে। গত বছরের ২৩ অক্টোবর আশরাফের স্ত্রী শিলা ইসলাম লন্ডনের একটি হাসপাতালে মারা যাওয়ার পর মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন আশরাফ। নিজেকে সব ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে কিছুদিনের জন্য দূরে সরিয়ে রাখেন। তবে গত ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবসের আগে-পরে দলের বেশ কিছু কর্মসূচিতে আশরাফকে দেখা গেছে। রাজনীতিতে আশরাফুল ইসলামের ফের সক্রিয় হওয়ায় কাদের লাভ আর কাদের ক্ষতি? উনি নিষ্ক্রিয় থাকলে বা তাঁকে নিষ্ক্রিয় করে রাখলে কী যায় আসে? রাজনীতিতে আশরাফুল ইসলামদের মত মানুষদের গুরুত্ব এবং তাৎপর্য কতখানি? এমন সব প্রশ্ন আমাদের মনে ঘুরপাক খাচ্ছে। উত্তরও কম-বেশী সবার জানা। ফেসবুকে এমন একটা প্রশ্ন রেখেছিলাম। সাংবাদিক এবং উদ্যোক্তা মহিউদ্দিন নিলয় উত্তরে লিখেছেন, ‘দেশ ও দলের লাভ, কিছু ব্যক্তির ক্ষতি’। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ছাত্রলীগ নেতা রিমন খান উত্তর দিয়ে লিখেছেন, ‘দেশের লাভ হবে বেশি’। রিমন খান লাভের অংশটি বলেছেন, ক্ষতি যাদের হবে তাদের কথা উল্লেখ করেন নি। রিমন খানের মত এমন নিবেদিত ছাত্রলীগ কর্মী হাজার হাজার আছে দেশে। এদের মত ছাত্রনেতা বা তরুণ রাজনীতিবিদগণ রাজনীতিতে নিজেদের আদর্শ নেতা খুঁজে ফিরেন। আশরাফুল ইসলাম তাঁদের সামনে একজন উজ্জ্বল রাজনীতিবিদের উদাহরণ। সবচেয়ে বড় কথা, আশরাফুল ইসলাম রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক সততা দিয়ে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার যোগ্য সাথী হিসেবে দেশবাসীর সামনে তুলে ধরতে সক্ষম হয়েছেন। মানুষ তাঁকে বিশ্বাস করে, তাঁর উপর ভরসা করে। জনগণের করের টাকা চুরি করে ‘বড়লোক’ হচ্ছে একশ্রেণির রাজনীতিবিদ,  আমলা, ঠিকাদার, প্রকৌশলী ও ব্যবসায়ী। এই কালো টাকার মালিকদের দালালি করে কাঁচা টাকার মুখ দেখছে সমাজের অন্যান্য পেশা ও শ্রেণির মানুষের একটা অংশও। দুই নম্বর লোকেরা যোগসাজশে তৈরি করেছে দুর্নীতি ও কালো টাকার এক সিন্ডিকেট। ফলে মূলধারার সাধারণ মানুষ দুর্নীতির দুষ্টচক্র থেকে বের হয়ে আসতে পারছে না। এখানেই উজ্জ্বল ব্যতিক্রম সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম। দায়িত্বশীল ব্যক্তি যদি সৎ হওন, নিষ্ঠাবান হওন তাহলে দেশের মধ্যে এর ইতিবাচক আছর পড়তে বাধ্য। দেশের একটা গরীব রিকশাওয়ালাও জানে আশরাফুল ইসলাম দুর্নীতি করেন না, সাদামাটা জীবন-যাপন করেন। আওয়ামী লীগের সর্বশেষ কাউন্সিলে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে জনাব ওবায়দুল কাদেরকে পরিচয় করিয়ে দেয়ার পর  সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের বন্দনায় মেতেছিল দেশবাসী। জনসম্মুখে খুব একটা না এসে তুলনামূলক আড়ালে থেকেও জনমানুষের ভালোবাসা ও আস্থা অর্জন করা যায়, তার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন তিনি। সম্প্রতি আশরাফুল ইসলামের স্ত্রী শীলা ইসলামের মৃত্যুতে মানুষ ভালোবেসে তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছেন। শীলা ইসলামের পরকালের শান্তি কামনায় প্রার্থনারত দেশবাসীর সামনে একটি বিষয় এসেছে। সদ্যপ্রয়াত স্ত্রী শীলা ইসলামের চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নিজের বাড়ি (?) বিক্রি করে দিয়েছেন আশরাফুল ইসলাম, এ রকম একটা খবর মানুষ খ্যাত-অখ্যাত অনেক অনলাইন নিউজপেপারে পড়েছে। তবে আশরাফুল ইসলামের খুব কাছের বা নিশ্চিত জানেন বলে দাবি করে কয়েকজন ফেসবুকে লিখেছেন, আশরাফুল ইসলামের বাড়িই ছিল না যে তিনি বিক্রি করবেন! হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটি থেকে পড়াশোনা করা বাংলাদেশি তরুণ পদার্থবিজ্ঞানী ও ব্লগার মোফাজ্জল হোসেন সুমন ফেসবুকে লিখে জানিয়েছিলেন, ‘সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম একজন বিরল প্রজাতির মানুষ। তার ব্যক্তিগত কোনো প্লট নাই। ফেইসবুকে একটি তথ্য যেভাবে ভাইরাল হয়েছে, এমনকি সংগৃহীত সেই স্ট্যাটাসটি আমি নিজেও পোস্ট করেছি। তাতে মনে হবার যথেষ্ট কারণ রয়েছে যে, সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম-এর বনানীতে একটি বাড়ি ছিলো এবং সেটি তিনি বিক্রি করেছেন। এই তথ্যটি বিভ্রান্তিকর। তাই এই স্ট্যাটাসটির অবতারণা করতে হলো এবং পুরো দায়ভার নিয়েই লেখাটি লিখছি। চারবারের সংসদ সদস্য হিসেবে সরকারী প্লট এবং শুল্কমুক্ত গাড়ি ক্রয়ের সুবিধা আইনগতভাবেই পান তিনি। কিন্তু কোন প্লট নিয়েছেন কিংবা গাড়ি কিনেছেন বলে আমরা জানি না। যদিও প্লট নেয়া কিংবা গাড়ি কেনার বিষয়টি অসততার মধ্যেও পড়ে না। তবুও তিনি এসব সুবিধা গ্রহণ করেননি। আশরাফ ভাইয়ের সম্পত্তি বলতে কিশোরগঞ্জ সদর থানার যশোদল ইউনিয়নের যশোদল গ্রামে ১৫ শতাংশ জমির উপরে একটি পৈতৃক বাড়ি এবং ময়মনসিংহের কলেজ রোডে ৮ শতাংশ জমির উপরে একতলা বাড়ি। আর জাতীয় চার নেতার নামে সরকার ১০ কাঠার প্লট দিয়েছিল গুলশানে। বাড়ি করার সময় সেটা চার ভাই দুই বোনের ভিতরে উনি পেয়েছিলেন দুই শতাংশ জমি। বাড়ি করার জন্য যখন প্রত্যেক ভাই-বোনেরা নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা জমা দিচ্ছিলেন তখন উনার কোন টাকা না থাকার কারণে দুই কাঠা জমি বন্ধক রেখে ব্যাংক থেকে ৮০ লাখ টাকা ঋণ নেন। ‘পরবর্তিতে ভাবির (শীলা ইসলামের) অবস্থা জটিল হলে সেই জমি ভাইদের কাছে বিক্রি করে দিয়ে ব্যাংকের ঋণ পরিশোধ করেন এবং ভাবির চিকিৎসা বাবদ খরচ করেন। এমনকি পরবর্তিতে লন্ডন থেকে জার্মানি নেওয়ার জন্য ১২ লাখ টাকার প্রয়োজন ছিল, সেই টাকা উনার কাছে ছিলো না। উনি দুবার টিকিটের তারিখ পরিবর্তন করেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এটা জানার পর উনার নিজের একাউন্ট থেকে ১২ লাখ টাকা দিতে চান কিন্তু মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জানতেন এমনিতে দিলে আশরাফ নিবেন না তাই তিনি বলেন, "টাকাটা আমি তোমাকে বোন হিসেবে ধার দিচ্ছি, তুমি পরে শোধ করে দিও। এই হচ্ছেন আমাদের শ্রদ্ধেয় আশরাফ ভাই, সততা আর ন্যায়ের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।’ মফস্বলের সামান্য কিছু সম্পত্তি ছাড়া আশরাফুল ইসলামের ঢাকায় বা লন্ডনে কোনো বাড়ি নেই? অবিশ্বাস্য! আওয়ামী লীগ-বিএনপির যারা ওয়ার্ড কমিশনার তাদেরও কোটি কোটি  টাকার সম্পত্তি থাকে। ছাত্রলীগের সাবেক সদ্য সাবেক নেতাদের পর্যন্ত থাইল্যান্ড, লন্ডনে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান আছে। অসৎ রাজনীতিবিদ ও আমলাদের একাধিক বাড়ি-গাড়ি থাকে। নামে-বেনামে একাধিক ব্যাংক একাউন্ট থাকে। দেশে বাড়ি-গাড়ি করার পর শুরু হয় বিদেশে পাচার। লাখ লাখ কোটি টাকা বিদেশে পাচার করে এরা। কালো টাকার মালিকরা কালো টাকা সাদা করার সুযোগ নিয়ে শিল্পপতি বনে যায়। সমাজ আবার তাদেরই মাথায় তোলে নাচে। অথচ আশরাফুল ইসলাম আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন, একাধিকবার এমপি ছিলেন, এখনো একটা মহাগুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় সামলাচ্ছেন। বাংলাদেশের দুর্নীতি পরায়ণ শিক্ষিত সমাজের বিপরীতে সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম যেন সততার এক দেদীপ্যমান বাতিঘর। রাজনীতি এখন সৎ মানুষের জন্য কঠিন হয়ে গেছে। হাজার কোটি টাকার মালিক না হলে রাজনীতি করা যায়, এটা এখন আর কেউ বিশ্বাস করে না। সাধারণ মানুষও বিত্ত ও ক্ষমতাশালী ছাড়া কাউকে পাত্তা দিতে চায় না। ব্যবসায়ীরা শত শত কোটি টাকা অনুদান দিয়ে নমিনেশন কিনে নিচ্ছে। অথব রাজনীতিবিদরা কালো টাকার মালিক হয়ে বড় শিল্পপতি (?) বনে যাচ্ছেন। এমন কঠিন সময়ে সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম আমাদের রাজনীতির অন্যতম ভরসার ব্যক্তিত্ব। সমাজে নানা শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে অবিশ্বাস আর অনাস্থার সম্পর্ক। কিছু মানুষ ক্রমাগত সম্পদ লুটে চলেছে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সমতার ভিত্তিতে যে সমাজ সৃষ্টি করতে চেয়েছিলেন, তা এখনো প্রতিষ্ঠিত হয়নি। তদুপরি বিলাসের আমলাতন্ত্র যেকোনো সময়ের চাইতে শক্তি অর্জন করেছে। নির্দিষ্ট কয়েকটি শ্রেণির মানুষ ছাড়া সাধারণ মানুষের জন্য রাষ্ট্র গণসুবিধা নিশ্চিত করতে পারেনি। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো প্রতিবছর শিক্ষিত তরুণ-তরুণী উপহার দিচ্ছে। তারাই প্রশাসনে যাচ্ছে, কিন্তু দুর্নীতি কমছে না খুব একটা। একটানা সবচেয়ে বেশি সময় দেশ পরিচালনাকারী নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শেখ হাসিনা বাংলাদেশকে উন্নয়নের মহাসড়কে তুলে দিয়েছেন। একটি দুর্নীতিমুক্ত কল্যাণধর্মী সমাজ গঠনের সংগ্রামে শেখ হাসিনা যে কজন সৎ ও নিষ্ঠাবান সাথী পেয়েছেন তাদের একজন আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম। শেখ হাসিনা যেমন জাতির পিতার যোগ্য কন্যা হিসেবে দেশকে নেতৃত্ব দিয়ে চলেছেন, আশরাফুল ইসলামও মুজিবনগর সরকারের অস্থায়ী রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করা সৈয়দ নজরুল ইসলামের ছেলে হিসেবে নামের প্রতি সুনাম অক্ষুণ্ন রেখেছেন। শেখ হাসিনার হাতকে বরাবরই শক্ত করেছেন তিনি। কদিন বাদেই ছাত্রলীগের কাউন্সিল। ছাত্রলীগ নাকি শিবিরে ভরে গেছে! খুবই আতংকের খবর। আজকের ছাত্রলীগ নেতাই আগামীদিনের আওয়ামী লীগ নেতা। এখন যদি শিবিরের ছেলেরা ছাত্রলীগের লিডার হয়ে যায়, তাহলে ১০/১৫/২০ বছর পরে এরাই হবে আওয়ামী লীগের নেতা। শিবির আর দুর্নীতিবাজেরা যদি আওয়ামী লীগের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয় তাহলে ভবিষ্যতে আওয়ামীলীগের অবস্থা কী হবে তা ভেবে আমরা কুলকিনারা পাইনা। এই কঠিন গুরুত্বপূর্ণ সময়ে আশরাফুল ইসলামের রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার খবর নিঃসন্দেহে আশা জাগানিয়া। নানা বাধা অতিক্রম করে বাংলাদেশ অগ্রসর হচ্ছে। কৃষক-শ্রমিকের শ্রমে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিয়মিতভাবে সাতের কাছাকাছি থাকছে। সব রাজনীতিবিদ যদি যার যার কাজে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের মতো নির্লোভ, আন্তরিক, সৎ ও কঠোর পরিশ্রমী হতেন, তাহলে বাংলাদেশই হতো বিশ্বের অন্যতম সমৃদ্ধ ও উন্নত রাষ্ট্র। লেখক: বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক, সাংবাদিক। 

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..

ফেসবুকে আমরা...